চিন নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন না করলে ভারত এবারে ছেড়ে কথা বলবে না

ভারতের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের ছক কষতে শুরু করেছে চিন। বিরাট চিনা বাহিনী রেচিং লা রিজলাইনের মুখপারি চুড়ো অঞ্চলে ভারতীয় বাহিনীর ওপর আক্রমণের চেষ্টা চালায় চিনাবাহিনী। তাদের সঙ্গে ছিল রড, মুগুর, বর্ষা, গুয়ানদাও নামক বাঁশের মাথায় রড লাগানো এক ধরনের ভয়ানক অস্ত্র। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) চুশূলের মুখরি এলাকা দিয়ে আরও একবার ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিল চিনের পিপল’স লিবারেশন আর্মি। কিন্তু, ভারতীয় সেনা তা বানচাল করে দেয়।

             প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনা অনুপ্রবেশ ভেস্তে যাওয়ার পরেই বেজিং ভারতের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ তোলে। ভারতকে হুঁশিয়ারিও দেয়। সোমবার সন্ধে ৬টা। লাদাখের প্যাংগং লেকের কাছে ভারতীয় পোস্ট সংলগ্ন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় একে একে জমা হতে থাকে চিনা। বিনা প্ররোচনায় আরও একবার এভাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় অস্ত্রশস্ত্র সমেত সেনা মজুত করার বিষয়টির তীব্র বিরোধিতা করে ভারত। চিনা সেনাদের ফিরে যেতে বলা হয়। যখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর চাপে পিছু হঠতে বাধ্য হচ্ছে চিন, তখনই তারা শূন্যে ১৫ রাউন্ড গুলি চালায়। মনে করা হচ্ছে রেচিং লা রিজলাইনের মুখপারি চুড়োর দখল নিতেই এই পদক্ষেপ চিনের। সূত্রের খবর, ভারতের তরফে প্ররোচনায় পা দিয়ে পাল্টা গুলি চালানো হয়নি।

           সূত্রের খবর, এলএসির রেচিন লা’র কাছে ১ সেপ্টেম্বর পিএলএ পদাতিক ফোর্সের এক ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে। স্পাঙ্গুর লেকের কাছে মোতায়েন করা হয়েছে আরও ২ ব্যাটালিয়ান। শিকওয়ানে থাকা চিনের ৬২ কম্বাইন্ড আর্মস ব্রিগেড থেকেই এই সৈন্য জড়ো করা হয়েছে। ২৯ ও ৩০ অগস্ট রেচিন লা ও রেজাং লা’র দখল নিতে সমর্থ হয় ভারতীয় সেনা। কৌশলগত গুরুত্বের কথা ভেবে চিনের লালফৌজ চেষ্টা করবে এই শিখর দু’টি পুনর্দখল করার। এ ছাড়া লাদাখে দু’টি মোটোরাইজড ডিভিশনকে মোতায়েন করেছে চিন। চতুর্থ মোটোরাইজড ডিভিশন মোতায়েন করা হয়েছে চশূলে। ষষ্ঠ মোটোরাইজড ডিভিশন মোতায়েন রয়েছে প্যাংগং থেকে দৌলত বেগ ওল্ডির পশ্চিম ধারে। স্পাঙ্গুর গ্যাপে পজিশন নিয়ে রয়েছে ৪ মোটোরাইজড ডিভিশনের ট্যাঙ্ক ব্যাটালিয়ন। পাশাপাশি যেসমস্ত এলাকা দিয়ে চিনাসেনা বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে, সেখানে ভারতও ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান তৈরি রেখেছে। যে কোনও ধরনের চিনা আগ্রাসনের জবাব দিতে ভারত তৈরি।

         উল্লেখ্য, দ্বিপাক্ষিক শান্তি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিক হয়েছে, ভারত-চিন সীমান্তে দুই দেশের সেনা কোনও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে টহল দিতে পারবে না। খালি হাতেই টহল দেওয়ার কথা। কিন্তু সোমবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বল্লম, লোহার রড নিয়ে টহল দিচ্ছে চিনা সেনা। ছবি প্রকাশ হতেই পরিষ্কার সব কিছু। কারণ সে ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, বল্লমের মতো অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে লাল ফৌজ। নয়াদিল্লির এক কূটনীতিকের কথায়, এ যেন মধ্যযুগীয় সং সাম্রাজ্যের সেনাবাহিনী। তখন তরোয়াল, বল্লম নিয়েই যুদ্ধ করত চিনা সেনা। সেই সময়ের মত এখনও তারা ওই সমস্ত অস্ত্র দিয়েই যুদ্ধ করতে চাইছে হয়ত-এমনটাই মনে করা হচ্ছে। তবে চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে রাজনাথ সিং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গলওয়ানের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে, এ বার আর ভারত ছেড়ে কথা বলবে না।

Published by

Swarnali Goswami

A person with full of energy and positivity.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s